তুমি = আমি = এক আলোকবর্ষ

তার সাথে মাহমুদের পরিচয় শেষবর্ষে যখন সে ভার্সিটির ক্যাম্পাসকে বিদায় জানাবে সেই সময়েই!

ভার্সিটিতে নতুন ব্যাচ আসলেই মাহমুদ সাথে দুই বান্ধবী শান্তনা আর সাইকি। ব্যাপারটা ছিল অনেকটা নিজের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ানোর মত। কিন্তু তারা মজা পেত।

মাহমুদের ভোকালের পাগল ছিল সংগীতা। অদ্ভুত রকমের হতাশাচ্ছন সময়ে মাহমুদকে দেখেই অদ্ভুত লাগে তার। ছেলেটা অদ্ভুত ইন্সপায়ারিং। ভাল লেগে যায় তার। এরপর ফোনে কথা। দেখা করা তাও সেই সংসদ ভবন আর লুই আই কান। মাহমুদ সাহেব তখনো বিনা ভেতনের ইন্টার্ণ। একদিকে এলোমেলো জীবন, শেষবর্ষের অনিশ্চয়তা আর হারিয়ে ফেলা ভালবাসায় জর্জরিত জীবনে সংগীতা যেন বাদ্যযন্ত্র। সেই হাতিরঝিলে রাতের রিক্সা ভ্রমণ, টি এস সি, শাহবাগ, রমনায় রিক্সায় চুপচাপ হাত ধরে দুইজন দুইজনের দিকে তাকিয়ে থাকা!

শীতের সন্ধ্যায় এমনই এক মুহূর্তে মাহমুদের ল্যাপটপ ছিনতাইকারীরা মটর সাইকেল থেকে টান দিলেও নিতে পারেনি। সংগীতা সায়ৈদা মাহমুদকে পড়তে দেয়নি। নরম হাত শক্ত করে ধরে ছিল! সে যাত্রায় বেচে যায় মাহমুদ। সংগীতা বাচায় তাকে।

মেয়েটা গিটার অদ্ভুত পছন্দ করতো। মাহমুদো পাগল। তখনো সে বাজাতে পারত না। একরকম জোর করেই গিটার কেনার টাকা পকেটে রেখে দেয় সে। সে জানে মাহমুদ নিবে না।

মাহমুদ একটা সময় অনেক ভাল গিটার বাজাতো। অনেক পড়ে হলেও সংগীতার শেষ ইচ্ছেটা পূরণ করেছে সে। যার কাছে এত ঋণের বোঝা তার হাজার ইচ্ছে পূরণো যত সামান্যই বটে!

গিটারের টাকাটা পাওয়ার পরের দিন ভার্সিটিতে গিয়েই শোনে একদম কাছের বন্ধুর বাবা বেচে নেই। সংগীতাকে কোনভাবে জানিয়ে বাসে ওঠে। গিটার কেনার টাকাটাই সম্বল। মাহমুদ আজীবন এই মেয়েটার কাছে ঋনী হয়ে গেছে তখনই। এরপর সেই ঋণের বোঝা নিয়েই সংগীতার জীবন থেকে সে সরে যায়।

মাহমুদ চেয়েছিল সংগীতা নিজে কিছু করুক। মাহমুদকে পেলে সংগীতার নিজের বলতে কিছুই হবে না। থাকবে না। মাহমুদ ছাড়া। মাহমুদ যখন বুঝতে পেরেছিল সংগীতার জীবন মাহমুদ কেন্দ্রিক হতে যাচ্ছে। ঠিক সে সময়েই সরে যায়।

সহজ ছিল না! প্রতারকের তকমা লেগে যায় হয়তো! সংগীতা জানবে না হয়তো কোনদিন! আজীবন ঘৃণা করে যাবে! এটাই তো ভালবাসা! ভালবাসার জন্য এতটুকু করাও অনেক কঠিন হয়ে যায় সময় থেকে সময়ে! ঐযে আলোক বর্ষের মত। অলীক কিন্তু সত্য।

মাহমুদ জানে সে সংগীতাকে যে ভালবাসাটা দিয়েছিল সেটা সত্য! ডুবে যেতে যেতে যার হাত ধরে বেচে ওঠা তাকে ভুললে জীবন ক্ষমা করবে না!

শেষ দেখাটা ছবির হাটে। তাদের দুজনের খুব প্রিয় জায়গা। আবছা জ্যোৎস্না আলোয় ভালবাসার লোভ সামলানো কঠিন!

শেষবার! হাতটা ছাড়ার আগে কে যেন গেয়ে ওঠে!

“ভেবে দেখেছো কি তারারাও যত আলোকবর্ষ দূরে, তারো দূরে, তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে”

সংগীতা কিছুই জানতা! মাহমুদ বুঝতে দেয়নি! বুঝে কষ্ট দিতে চায়নি তাই সরে দাঁড়ানো। তাই তো বিদায়বেলায় সবুজ রঙ করা সি এন জি’র ভেতর মাহমুদের কাধে মাথা দিয়ে তীব্র ভালবাসার চেষ্টা! অদ্ভুত আকুতি সেই ভালবাসায়! ছেড়ে দিতে না চাওয়ার আকুতি!

কাল সংগীতার বিয়ে। অন্যের ঘর আলোকিত করে ছন্দ সংগীতে ভরিয়ে তুলবে সে!

সংগীতা মাহমুদকে ঘৃণা করতে করতে ভুলে যায়! সে কোনদিন আর জানবে না মাহমুদকে! এটাই তো নিয়ম!

পৃথিবী তুমি জেনে রেখ মাহমুদের গিটারে তোলা প্রথম গান “তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে”। সে জানে সংগীতা ছাড়া তার প্রিয় শখটা কেউ হয়তো ভেবেই দেখতো না! রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা-চটপটি খাওয়া হত না যেন তেন ভাবে! কিংবা হাতিরঝিলের মৃদ্য বাতাসে সংগীতাকে হঠাৎই বলে ওঠা “এই মেয়ে ভালবাসি কিন্তু……”

কানে অনবরত বাজতে থাকে

“তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে সরে”

মিনিস্টার মাহমুদ। কনিষ্ঠ পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের এক সংগীত সন্ধ্যা অতীতকে এভাবে সামনে নিয়ে আসবে ভাবতেই পারেননি মাহমুদ।

সংগীতা! ভাল থেকো! ভাল তোমার হবেই! তোমার ভালটা দূর থেকে দেখে হাসলে রাগ করো না! এই হাসি তোমার প্রতি অধিকার বাড়িয়ে দেয়! ভালবাসার মানুষ না হোক ভাললাগার কেউ হিসেবে তো মনের কোন এক কোণে থাকাই যায়! ভালবাসা তোমার জন্য!

ক্ষমা করে দিও। অধিকার রেখো না কোনদিন! ঋণটা থাকুক। আমি তোমার কাছে আজীবন ঋণী হয়েই না হয় থাকি!

ছবির হাট, ২৪ নভেম্বর, ২০১৪

শেষবার ভালবাসার জায়গা!

Advertisements

The Hidden Black Pearl

মাহমুদ সাহেব ঘামছেন। এমনিতেই তিনি বেশী ঘামেন। ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলতেন। বড় হয়েও খেলেছেন। বাহাতি মারকুটে ব্যাটসম্যান ছিল। স্ট্রাইকার। এই খেলতে গিয়েই তিনি বুঝেছেন তিনি কারণে-অকারণে ঘামেন। তবে ফ্রেশনেসের ব্যাপারে নো-কম্প্রোমাইজ।

একের পর এক পরিবেশভারী করা প্রশ্ন সাংবাদিকদের। তিনি শোনেন আর মনে মনে হাসেন। স্বল্প সময়ের জন্য হলেও তিনি এক সময় সাংবাদিকতা করেছেন। তবুও ৪-৫ বছর হবেই। ভার্সিটির সময়টার কথা। পকেট খরচটা চলত অন্তত।

সদাহাস্যেজ্জ্বল নবনির্বাচিত পরিকল্পনা মন্ত্রী মাহমুদ সাহেব তিতা তিতা সব প্রশ্নের মিষ্টি করে উত্তর দেন। মিডিয়ার সামনে বরাবরই সাবলীল তিনি। সোশ্যাল এক্টিভিস্ট হিসেবে চেনামুখ এই ভদ্রলোক চেহারা দিয়ে না হলেও কথা দিয়ে মানুষে মুগ্ধতা ছড়ানোর এক অতিমানব জাদুকর।

লোকটা পারে কেমনে? এমনো হয় পলিটিশিয়ান? ভাবতে ভাবতেই মাইক চলে আসে তার কাছে।

অপ্রস্তুত হয়ে যান সারাহ সানজিদা সায়ন্ত। পলিটিক্যাল জার্নালিজমে সদ্য আত্মনিবেদনকারীনী সাংবাদিক। অল্প সময়েই তূখোড় তূখোড় নেতাকে ক্যামেরার সামনে নাকানিচুবানি খাওয়ানো সায়ন্তের এবারের শিকার মন্ত্রী মাহমুদ। এমনটাই ভাবছিলেন সবাই।

মাইক হাতে কিছুক্ষণ চুপ থেকে একটু হাসলেন মিস সায়ন্ত। চেহারায় স্পষ্ট অপ্রস্তুতের ছাপ। কি প্রশ্ন করবেন ভেবে রাখেননি। তার কখনোই এমন হয় না৷ আজ সবকিছুই একটু ব্যতিক্রম। ভাবছেন সায়ন্ত।

“মিস সায়ন্তের আজকের স্ট্রাটেজি ডিফারেন্ট মনে হচ্ছে”

হঠাৎ বলে উঠলেন মাহমুদ। মুখে চাপা হাসি। সেই চিরচেনা হাসি।

উপস্থিত মিডিয়া কর্মীদের চাপা হাসির রোল শোনা যাচ্ছে।

কান গরম হয়ে উঠেছে সায়ন্তের। ভেবে পেলেন না কেন এমন হল। ভাবতে ভাবতেই মাইক ছেড়ে দিলেন আবারো সেই বিব্রতকর হাসি।

এমনিতেই ফেসবুকে স্টকিংসের তেমন আগ্রহ নেই সায়ন্তের। তবে আজ মাহমুদ সাহেবের ভেরীফাইড একাউন্ট তন্ন তন্ন করে ঘেটেও তাকে বোঝা গেল না। তবে কভারফটোতে সেই বিখ্যাত উক্তি,

“Make your friend close, Enemy closure”

ঠিক মাসখানেক পড়েই হাতিরঝিলে তাদের প্রথম দেখা। আইডিয়াটা মাহমুদের। জায়গাটা তার বিশেষ ভাল লাগার। সায়ন্তের সাথে প্রথম সাক্ষাৎ বলে কথা।

মাহমুদের এখনো মনে আছে প্রথম সাক্ষাতের পর সায়ন্তের সেই sms.

You have made me so ease, i couldn’t think of you like that. I couldn’t even think how an unknown can be so known from the first hello. Thank You Mahmud. Thank You for everything!

ঝিলের কোন এক ডেকেই সায়ন্তের প্রথম জিজ্ঞাসা আপনি কি চান আমার কাছে?

সেই চিরচেনা হাসিতে মাহমুদের উত্তর, “এভাবে এক সাথে রাতের আকাশ দেখতে চাই”

সায়ন্ত পাহাড় ভালবাসে। দূরন্ত মেয়ে। শাড়ি পড়ে একটা মেয়ে কিভাবে পাহাড়ে ওঠে সেটাও এক বিস্ময় মাহমুদের কাছে। ভেবেই পান না, মানুষ কতোটা অদ্ভুত। তিনি নিজেও।

আরো অনেকপরের কোন এক শীতের সন্ধ্যায় সায়ন্তের আর্তি।

“মাহমুদ আমাকে পাহাড়ে নিয়ে যাবে?”

“কিন্তু আমি তো সমুদ্র ভালবাসি সায়ন্ত”

“তাহলে চল পাহাড় আর সমুদ্র আছে একরকম কোথাও”

“না, পিছনে পাহাড়। সামনে সমুদ্র”

‘হা লং বে’, ভিয়েতনাম। পিছনে পাহাড় সামনে সমুদ্র।

তাদের আনঅফিসিয়াল সম্পর্কের শেষ অফিসিয়াল ডিনার। সায়ন্ত-মাহমুদের দ্যা লাস্ট সাপার।

“এই নড়বা না। এইটা চোখে দাও একটা ফ্রেম মাথায় আসছে” মাহমুদ অস্থির হয়ে ওঠে ফ্রেমটার জন্য।

BnW তার ৩০ বছরের দূর্বলতা সেটাও জানে সায়ন্ত। অদ্ভুত সুন্দর ছেলেটার ফ্রেমিং সেন্স। অদ্ভুতভাবে ক্যামেরা দিয়ে মুখের না বলা কথা বলতে পারে সে। ছবি দিয়ে কথা বলাতে পারে।

যেভাবে তার এই বিখ্যাত BnW Portrait টাতে মাহমুদ সাহেব পেরেছেন।

দ্যা হিডেন ব্ল্যাক পার্ল।

নিজের ছবির নামটা নিজেই দিয়েছিলেন সায়ন্ত। তাও বছর বিশেক আগে!

The Hidden Black Pearl

রেড ভেলভেট কিংবা সিলভার স্ক্রিণ

গাড়ি মানিক মিয়া এভিনিউয়ের দিকে এগিয়ে যায়! বাদশাহ মিয়া ভাবেন পৃথিবী কত অদ্ভুত! মানুষগুলো ও। যেমন তার স্যার। মিঃ মাহমুদুল গণি।

ভদ্রলোক কত বড় মানুষ। তবে মনটা উত্থাল! এই ম্যাডাম আর এই নায়িকা ম্যাডাম।

অনন্যা রহমান। সিলভার স্ক্রিণের অন্যতম প্রিয়মুখ। তার উপস্থিতি মানেই যেন মিষ্টি হাসির সেই বিখ্যাত অভিব্যক্তি

এই অভিব্যক্তির প্রেমেই পড়েছিলেন মিনিস্টার মাহমুদ।

তখন প্রথম নির্বাচনের অমানসিক চাপ। নাওয়া খাওয়া নেই সারাদিন পথে পথে প্রচারণায় ব্যস্ত মাহামুদ।

কাঠিন সময় তার জন্য। প্রথম ইলেকশন। সবকিছুই নতুন৷ জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহুর্ত বলতেই পারেন৷ মাথার উপরের কালো ছায়াটা তখনো সরেনি। মাহমুদের মনে আছে সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে মাঝরাতে বাসায় ফিরেই কি যে শূন্যতা ভর করতো!

এমনই এক ব্যস্ততম দিনে অনন্যা রহমানের সাথে দেখা। এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে৷ ঘড়ি ধরে ৩ মিনিট তাকিয়ে ছিলেন মাহমুদ। লাল শাড়ি পড়া অনন্যার সেই মিষ্টি হাসি৷ অনন্যা রহমানের স্বামী তাকে নিতে এসেছে৷ তাকিয়েই ছিলেন কথা আর হয়নি। তবে এই দেখা যেন শেষ দেখা না হয় মনেপ্রাণেই চেয়েছিলেন মাহমুদ! শুরুটা তখন থেকেই!

_কি ব্যাপার উঠতে ইচ্ছা করে না?

_ আর ২ মিনিট প্লিজ।

_ আমার শুটিংয়ের দেরী হচ্ছে! ওঠো তো!

ঠিক দেখা হবার এক বছর পরের ঘটনা। কোভালাম বীচ রিসোর্টের রেড ভেলভেট আর সিলভার স্ক্রিনের রোমান্টিক কেমিস্ট্রি।

Erick Claption ওর গানটা বেজে যাচ্ছে

Oh My Darling, you look wonderful tonigh!

Make challenges after making sure that you gonna get it anyway! (S032_Santos032_01)

গণতান্ত্রিক ইতালির ৫০ বছর পরের সিসিলি। গণতন্ত্র নতুন যোগারে শত শত যুবক নিজেদের সামিল হয়েছে। এদের মধ্যেই হয়তো রয়েছে পরবর্তী ডন। অনেকেই স্বপ্ন দেখতো। কিন্তু একজন ছিল যে স্বপ্ন দেখতো সীমানারো ওপাশে। সীমানা ছাড়িয়ে উপরে ওঠার।

সিসিলির কোন একগ্রাম থেকে উঠে আসা এক সাদাসিধে হাস্যজ্জ্বল ছেলে। মদ-সিগারেট খায় না। বিয়ারে অরুচি। কফি ভালবাসে। সিসিলিয়ান রেইন ভালবাসে। এই ভালবাসতে বাসতেই প্রেমে পড়ার  এক সিসিলিয়ান নারীর। দেহ-মন উজাড় করে ভালবাসে। খোলা আকাশের নিচে যে চুপ চুপ করে বলতো

“No one here only but the sky so speak softly love”

আদ্রিনার নামক তরুনীর প্রেমে পড়া সেই ছেলেটিই হয় ডন কর্লিয়নি পরবর্তী সিসিলির সবচেয়ে বড় ডন। যার কিনা একটা ফোন কল, অনেকের কাছে অনেক কিছু। ফোন কথা বলতে ভালবাসে না সে।শুধু সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। “not more than 20 secs, Don usually talks”
কথা বলতে হলে সে হুইস্কি ই বেশী পছন্দ করে। আপনি তার সাথে কথা বলতে হলে আপনাকে যে গুছিয়ে তার কাছে যেতে হবে সে বিষয়ে কোন সন্দেহই নাই। ডন আইফেল সান্তোস। সিসিলির লোকাল রাজনীতিতে যার কথাবলার এক অদ্ভুত সুন্দর জনপ্রিয়তা আছে। অবিবাহিত সিসিলির নতুন মেয়র সার্জিয়ো আইফেল সান্তোস।

সিসিলির ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সী মেয়রের জনপ্রিয়তা ছুয়ে যায় শিশু-কিশোর, তরুণ-যুবা,বৃদ্ধ সবার কাছে। সবার প্রাণের মানুষ এই কম বয়সী তরুণ মেয়র। সমাজের সাহিত্যিক, লেখক, সঙ্গীতশিল্পী থেকে শুরু করে আঁকিয়ে-স্থপতিরাও যাকে মনে করেন নিজেদের মানুষ। যতদিন মেয়র ছিলেন সিসিলির কোন মানুষ বলতে পারেনি তিনি না খেয়ে ছিলেন। ক্রিস্টমাসে সান্তা যাননি এমন কোন সিসিলিয়ান পরিবার তার সময়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
“One day my people will say, we had a SANTOS, SANTOS THE GREAT”
পেশায় স্থপতি এই তরুণ মেয়রের সবার্ক্ষনিক চিন্তা একটাই। সিসিলির মানুষের কিভাবো ভালো করা যায়। এমন যে মানুষ তার প্রেমে পড়াটা নিশ্চয়ই বিশেষকিছু। কিন্তু আদ্রিনা এমনই এক নাম। যার জন্য ই আজকে সান্তোস সিসিলির মানুষের প্রাণের মেয়র। সরকারদলীয় ডেমোক্রেটিক পার্টীর তরুণ রাজনৈতিক নেতা। উপস্থিতবুদ্ধি সম্বলিত বক্তা, আর্টিস্ট, ফিঙ্গারস্টাইল গিটাবাদক এবং স্থপতি এই তরুণ মেয়র ই সিসিলির আন্ডারগ্রাউন্ডের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম। আধুনিক সিসিলির তরুণ মেধাবী ডন। প্রতিপক্ষ মাফিয়াদল গুলো ভাল ভাবেই জানে Santos makes challenges after making sure that he is gonna get it anyway!

The Mayor! The DON, The Master Mind! The Idea himself!
DON EIFEL SANTOS (1972-2052)20171202_121002.jpg

In Bangladesh Cricket is not religion. It’s a game, played by the heart of GOD.

নিজে ক্রিকেটার হবার শখছিল। খারাপ খেলতাম যে তাও না। ব্যাটেবলে ২২ গজে মিললেও বাস্তব জীবনে মেলেনি। ভালোই হয়েছে। না হলে সাকিব-আল-হাসান বিশ্বের ২ নম্বর সেরা অলরাউন্ডার হত!

ঘুম ভাঙছে। সাকিব আল হাসান বিশ্বের ২ নম্বর অলরাউন্ডার নয়। ইমরান, বোথামদের ক্লাসের ফার্স্টবয় এই সাকিব। এই ছেলে ক্রিকেট ইতিহাসের এক নম্বর হয়ে খেলা ছাড়বে। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক হবে এই আমাদের সাকিব। #S075

২০২১ সালের পাঠ্যপুস্তকে মাশরাশি বিন মর্তুজাকে নিয়ে বাংলা বইয়ের চ্যাপ্টার ২ লেখা হবে। চ্যাপ্টারের নাম স্বদেশপ্রেম। Oh captain! Our Captain! #M02

২০৩৫ সালে নিজের টেস্টে ইতিহাতের প্রথম বোলার হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমানের ১৫০০ উইকেট! #Fizz_90

এইসব স্বপ্ন আমরা দেখতেই পারি। সেই সুন্দর এবং সৎ সাহস আমাদের জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা দেখানোর গর্বটুকু আমাদের দিয়েছেন। প্রতিনিয়ত এক রেকর্ড ছাড়িয়ে আমাদের আশায় বুকবাধার শক্তিটুকু যুগিয়ে যাচ্ছেন!

একজন মাশরাফি যখন মাঠ থেকে ইশাড়া করে বলেন, “চাচা, ওরে দেখো। ওর যেন কিছু না করে পুলিশ মামারা”

মনে আছে সেই ম্যাশপাগল দর্শকের? আমি সেদিন একটুও রাগ হয়নাই। খুবই আবেগী মানুষের পরিচয় দিয়ে চোখ মুছে হাসতে হাসতে ভেবেছি ‘পোলাটা তো আমি’ ই। আমারো ইচ্ছা করে একটু জড়ায় ধরে বলি ম্যাশভাই। ও ম্যাশভাই!

আমার সময়ের বাহাতি ব্যাটিং আইডল ছিল ব্রায়ান লারা। সাবকন্টিনেন্টে জয়সুরীয়া, গাংগুলি। তাদের দেখেই বা হাতে ব্যাট ধরার সেই যে প্রেম। আমার খেলার শেষের দিকে তামিম ইকবাল নামে একজন আসে। আধুনিক ক্রিকেটের সবচেয়ে স্টাইলিশ মারকুটে ব্যাটসম্যান এই তামিম ইকবাল খান (#TIK_029) । নিজ দেশের হয়ে সব ফরম্যাটেই সেঞ্চুরীসহ ব্যাক্তিগত সর্বোচ্চ এই কালা না পারা’ তামিমের। লজ্জা! লজ্জা! লজ্জা! আমাদের নিজেদের প্রতি!

তবে আমি এখানেও পজেটিভিটি দেখি। তামিম ইকবাল নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন! যে ‘তামিমের ভাল শুরু = বাংলাদেশের জয়’।

সবকিছুই সম্ভব হয়েছে ক্রিকেটের উর্বর এই বদ্বীপে পঞ্চপান্ডবের অশেষ দৌরাত্ম্যে। মাশরাফি, তামিম,সাকিব,মুশফিক এবং ওয়ান অব দ্যা মোস্ট সাকসেসফুল কিলার অ্যাট দ্যা এন্ড মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের (#MH_030) কল্যাণে।

ফিজ,মিরাজ,সৌম্য,শান্ত,লিটন,জাকির, তাসকিন,রুবেলরাও ক্রমাগত চেষ্টা করে যাচ্ছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। ব্যর্থতা সাময়িক। বিশ্বাসটা না হারাই আমরা! ২০১৯ বিশ্বকাপ পেতে হবে বস! সময় নাই!

খেলাটাকে আমাদের ক্রিকেটাররা এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মাঠে উপস্থিত হয়ে যায়। বাংলাদেশ বলে কথা! যেন তেন দেশ না! ৩০লক্ষ মানুষ! কোন জাতি দিয়েছ দেশের জন্য?ভাষার জন্য?আমরা বাঙলী দিয়েছি বলেই “রিয়াদ ভাই, রিয়াদ ভাই, চলে আসেন” বলার স্পর্ধারাখি। এই বেয়াদবি আমাদের রক্তে আছে। এটা অধিকার আদায়ের দাবি। ১৯৫২ থেকে দেখিয়ে আসছি।

তবে চক্ষুলজ্জার গুড়েবালি দিয়ে স্লেজিংপ্রিয় অজিদের এই পুকুরচুরীকে কি বলবেন আজীবন মিনোজ বলা চ্যাপেলগণ?

বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলার কারণ খুঁজে বেড়াবো ক্রিকেটবোদ্ধারা লজ্জায় লুকানোর জায়গা খোঁজেন! বিকল্প খোঁজেন!

আমাদের সেই ভদ্র বেয়াদবগুলো মিটিমিটি হেসে জবাব দেয়। আমাদের এইসব লাগে না।রুবেলের রিভার্স সুইংয়ে স্টাম্প নাই হয়ে বাংলাওয়াশের মূহুর্ত এই বাংলার মাটিতে তৈরী হয় সহজাত বোলিং গুণাবলী দিয়ে।এখানে ‘দ্যা ফিজ’ জন্মনেয় সহজাত কাটার মাস্টার হিসেবে।

বিশ্বক্রিকেটে আমাদের প্রথম হিরো সহজাত প্লেমেকার আশরাফুলকেও তার ভূলের মাশুল দেওয়ার দেশ ক্রিকেটের এই শ্বেত শুভ্র সবুজ লাল এই বাংলাদেশ!

আতহার আলী খান এখন কমেন্টারি বক্সে নিশ্চয়ই বলবেন, আওয়ার বয়েজ প্লেইড উইথ অনেস্টি। ওহ ইয়েস!

এভাবে ক্রিকেট এবং ক্রিকেটাররা শৈশব, কৈশোর, তারুন্য এমনভাবে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। এতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জুয়েল থেকে শুরু করে চাচা সুজন সবার অবদান অনেক। এমনি প্রতিখেলায় গ্যালারীতে চিৎকার করা শোয়েব আলীরো।

হৃদয়ের এই যে বিশাল অংশটুকু জুড়ে ক্রিকেট তার পুরো কৃতিত্ব আমাদের এই সোনারটুকরো ছেলেগুলো। এতই আবেগী যে নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল ম্যাচের পর ক্ষমা চান দেশবাসীর কাছে রুবেল, সৌম্যরা।

সবাই দিনকে দিন আমাদের কৃতজ্ঞ করে গেছেনছেন, যাচ্ছেন, যাবেন।। স্বপ্নদেখি, ছেলেকে নিয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেট জয় করা ওপেন বাস অ্যাভিয়েশনে থাকব যেমনটা রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা বার্সেলোনার দেখি।

মাঝে মাঝে ভাবি এত কৃতজ্ঞতা দেখাই কি করে! পর মূহুর্তেই আবার ভাবি,এটা ভালবাসা। এখানে কৃতজ্ঞতা দেখাতে নেই। ভালবাসা অক্ষুণ্ণ থাকুক না!

ক্রিকেট বিশ্বকে বলছি, আমি সেই দেশের ক্রিকেট পাগলের একজন যে দেশে আমরা বলি

Cricket is not religion here, It’s a game, played by the heart of GOD.

BD _ Fair _ Play.jpg

THIS IS WHAT I WHANTED !

20180224_222027.jpg

ভারত মহাসাগরের পাড়ে বসে আছি। রাত প্রায় ২ঃ৩০টা হবে। মহাসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মাতাল হাওয়ায়মাতাল না হলে যেন জীবনই বৃথা!
জন ডেনভার নামক এক পাশ্চাত্যের মডার্ণ বাউলের ‘Annies Song’ দিয়ে পাগলামির শুরু। পাগলের মত গানটা এখনো মন ভাল করার রাতের একমাত্র সহায়িকা!

গানটা এতই প্রিয় যে ভাবতাম একটা সময়, গিটার হাতে মহাসাগরের পাড়ে বসে বাজাব আর অন্ধকারে হারায় যাব! স্বপ্নটা যদি স্থায়ী হয়! যদি আবার ভাবা যায়, BLINK ! Everything gonna be ok!
শ্রীলংকার আহুঙ্গালা বিচে এরকম একটা সময় বসে আছি। সাথে সঙ্গীসাথীদের সাথে সব পেয়ে না পাওয়ার সুন্দর মূহুর্ত ভাগাভাগি করছি। সবার মাঝে অনুভূতি সাগর আর বাতাসের মহাশূন্য ভাসিয়ে দেওয়ার আশ্চর্য পরিতৃপ্তি।

গিটারটা এখনো ঠিকমত বাজাতে পারি না। তাল হলে লয় হয়, সুর হলে তাল হয় না অবস্থা। তবে এই ‘Annies Song’ টা জোড়াতালি দিয়ে কেমনে যেন হয়ে যায়!খুব সম্ভবত এটা শুধু আমার কাছেই! বেশী ভালবাসা জড়ানো বলে কথা!

বীচে গায়ক সমাজের গান হাওয়া শেষে আমার পালা! এমন সময় আমাদের মহাসাগরীয় আড্ডায় যোগ হয় এক বিদেশী কাপল। আলাদীন এবং কুলেজ। লেবানিজ এবং ইরানীয় দুই মানুষ ভালবাসার টানে মহাসাগরের পাড়ে। এবারই তাদের প্রথম দেখা। কথা বলে আর হাসে! যেন ভালবাসা সুবাস ছড়িয়ে পড়ে এই মহাসাগরের তীরে।

‘Annies Song’ শেষে কেন জানি চুপ হয়ে গিয়েছিলাম। শুধু ভাবছি, কি করলাম এটা ! তাই বলে এভাবে এখানে! স্বপ্ন দেখছি! নাহ ! জেগে আছি তো!

আলাদীন কুলেজকে জড়ায় ধরে বলতেছে, This is what you wanted?hu!
বাকিটা শুনিনি। ইচ্ছাও হয়নি। শুধু মনে হচ্ছিল, THIS IS WHAT I WANTED!